সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনি ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ এই নতুন নিয়ম জারি করেছে। এর আগে নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ছিল ৬০ বছর।
নতুন নিয়মটি চলতি মাস থেকেই কার্যকর হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নমিনিদের দীর্ঘদিন পেনশন দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এই সিদ্ধান্তের ফলে পেনশনভোগীর পরিবার আর্থিকভাবে বেশি দিন সুরক্ষিত থাকবে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে উপার্জনকারী ব্যক্তি মাত্র একজন, তারা এই সুবিধা পাবেন।
বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে চারটি স্তর রয়েছে। প্রতি স্তরে চাঁদার পরিমাণ আলাদা। সেই অনুযায়ী পেনশনের পরিমাণও নির্ধারিত হয়।
স্কিমের আওতায় পেনশনভোগী মারা গেলে তাঁর নমিনি মাসিক পেনশন পান। নমিনি না থাকলে অন্য নির্ধারিত ব্যক্তি এই সুবিধা পান।
নতুন নিয়মে নমিনির বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এর আগে ৬০ বছর বয়স হওয়ার পর নমিনির পেনশন বন্ধ হয়ে যেত।
একজন সুবিধাভোগী বলেন, ‘আগে ভাবতাম আমার স্ত্রী ৬০ বছর বয়সের পর আর পেনশন পাবেন না। এখন ৭৫ বছর পর্যন্ত পাবেন, এটা বড় স্বস্তির বিষয়।’
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নিয়ম পরিবর্তনের জন্য আইন সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম সব নতুন ও পুরনো গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য হবে।
নমিনি পরিবর্তন করতে চাইলে নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অফিসে বা অনলাইনে এই আবেদন করা যাবে।
পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনিকে পেনশন পেতে হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। কাগজপত্র যাচাই করে পেনশন চালু করা হবে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের ফলে পেনশন স্কিমের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে। আগামী দিনে আরও নতুন সুবিধা যোগ করা হবে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন। নতুন নিয়ম চালু হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।