দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) নতুন করে ৬৯ লাখ ৫০ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছেন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাস শেষে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজারে। এই সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি।
বিটিআরসির তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারিতে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার। ছয় মাস পর জুনে তা বেড়ে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মোবাইল গ্রাহক বেড়েছে ৪০ লাখ ৩০ হাজার।
মোবাইল ইন্টারনেটের আধিপত্য
দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে মোবাইল নেটওয়ার্কই প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। জুন মাস শেষে মোট ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ১২ কোটি ৮ লাখ ৪০ হাজারই মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।
অর্থাৎ, মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের প্রায় ৮৯ শতাংশ মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত। বাকি ১ কোটি ৫১ লাখ গ্রাহক আইএসপি ও পিএসটিএনভিত্তিক ব্রডব্যান্ড সেবা ব্যবহার করছেন।
জুলাই মাস পর্যন্ত তথ্যে দেখা যায়, মোবাইল ব্রডব্যান্ড গ্রাহক বেড়ে ১০ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৬৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বিশ্বকাপ ও কর প্রত্যাহারের প্রভাব
ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করেছে। চলতি বছর ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মোবাইলে স্ট্রিমিং করার প্রবণতা ইন্টারনেট ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়া মোবাইল সিম কার্ডের ওপর ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নতুন মোবাইল সংযোগ গ্রহণে উৎসাহ যোগায়।
রবি আজিয়াটার কর্পোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স প্রধান শাহেদ আলম বলেন, ‘বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের সময় বাংলাদেশে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইন্টারনেট ট্রাফিক রেকর্ড করা হয়েছে।’
৪জি গ্রাহক বৃদ্ধি
দেশে ৪জি সংযোগের দিকেও ব্যবহারকারীরা ঝুঁকছেন। জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ৪জি গ্রাহক বেড়েছে ৮৪ লাখ ৩০ হাজার। জুলাই শেষে মোট ৪জি গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজারে।
একই সময়ে ৩জি গ্রাহক কমেছে ১০ লাখ ৭০ হাজার। জানুয়ারিতে ৩জি গ্রাহক ছিল ২১ লাখ ২০ হাজার, যা জুলাইয়ে নেমে এসেছে ১০ লাখ ৫০ হাজারে।
অপারেটরভিত্তিক গ্রাহক সংখ্যা
জুন মাস শেষে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ৮ কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার। রবি আজিয়াটার গ্রাহক ৫ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার। বাংলালিংকের গ্রাহক ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার এবং টেলিটকের গ্রাহক ৬৮ লাখ।
জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে গ্রামীণফোন ২২ লাখ ৬০ হাজার এবং রবি ১৩ লাখ ৩০ হাজার নতুন গ্রাহক যোগ করেছে। বাংলালিংক যোগ করেছে ৪ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক।
ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনা
ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির এই ধারা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের এই বিস্তার ডিজিটাল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, অনলাইন শিক্ষা এবং সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।