র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবির যাত্রা শুরু, গেজেট প্রকাশ

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি গেজেটে ‘২০২৬ সনের ১৯ নং আইন’ হিসেবে এই আইন প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই গেজেটের পর বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বাহিনীটি নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করেছে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই বিলটি পাস করা হয়। গেজেট প্রকাশের পর নতুন আইন কার্যকর হয়।

এসআরবির প্রধান আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, ‘এসআরবি নামে গেজেট হয়েছে। আমরা র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি নাম দিয়ে সকল কাজ আজ থেকে শুরু করেছি।’

এসআরবি গঠনের উদ্দেশ্য

গেজেটে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বিশেষায়িত বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে গেজেটে। এসব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের আইন করা হয়েছে।

জনবল, সম্পদ ও তহবিল স্থানান্তর

আইনে বিলুপ্ত র‍্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে জমা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাবের বই, রেজিস্টার এবং রেকর্ড এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

র‍্যাবের কার্যক্রমসংক্রান্ত সব আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সঙ্গে সঙ্গে অকার্যকর হচ্ছে না। র‍্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও আদালতের কার্যধারা বহাল থাকবে।

লোগো ও পরিচিতি

এসআরবির যাত্রা শুরু হলেও বাহিনীটির লোগোর নকশা অপরিবর্তিত রয়েছে। বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা লোগো ব্যবহার করা হয়েছে।

এসআরবি লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং ডিরেক্টর উইং কমান্ডার এমজেডএম ইনতেখাব চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা লোগো, পোশাক, ব্যানারসহ সবকিছু ধীরে ধীরে পরিবর্তন করব। কোনো কিছু পরিবর্তনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে অনুমোদন নিতে হবে।’

বিরোধী দলের আপত্তি

বিরোধী দলের সদস্যরা বিল পাসের সময় আপত্তি জানিয়েছিলেন। জামায়াত-ই-ইসলামী এমপি নুরুল ইসলাম বলেছিলেন, র‍্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, ‘র‍্যাব নিয়ে আমাদের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম ও হত্যার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।’

পাবনা-১ আসনের জামায়াত এমপি নাজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, শুধু সাইনবোর্ড পরিবর্তন হচ্ছে; এটি নতুন বোতলে পুরনো মদ। র‍্যাবের নাম ছাড়া বাকি সবকিছু অপরিবর্তিত রয়েছে।’

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছিলেন, র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি ছিল সবার। কিন্তু কেউ একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি করেনি।

র‍্যাবের ইতিহাস

র‍্যাব ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গঠিত হয়। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র‍্যাব ও বাহিনীর সাত কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিটি ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। ক্ষমতায় এসে বিএনপি বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে কাঠামোগত ও কর্মপরিধি পুনর্বিন্যস্ত করে এসআরবি নামে মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave a Comment