পদ্মা সেতু A to Z | পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান

পদ্মা সেতু A to Z
পদ্মা সেতু A to Z

পদ্মা সেতু A to Z সম্পর্কে আপনি জানেন কি? বাংলাদেশর লোকেদের পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকা জরুরী। কেননা পদ্মা বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের বহু প্রতীক্ষার এবং সকল বাংলাদেশের মানুষের সপ্নপূরণের দিন আর বেশি দূরে নয়।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ পেছানো হয়নি।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ এখনও সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয় নি। আগামি জুনেই পদ্মাসেতু খুলে দেওয়া হবে।

পদ্মা সেতু a to z পোস্টটি পড়লে আপনি পদ্মা সেতু তৈরির ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা, উদ্ভোধন সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

দক্ষিণ- পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু বা পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে ২০০৬ সালে এই সেতু তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

এই সেতু  মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলার একটি মিলবন্ধন। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ়  হবে।

পোস্ট সামারি show

পদ্মা সেতু তৈরির ইতিহাস

পদ্মা সেতু A to Z
পদ্মা সেতু A to Z জানুন

 ২০০৬ সালে পদ্মা সেতু তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প গ্রহণের কিছুদিন পর এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট  কিছু লোকের দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করে দেয়।

ঢাকার সাথে মুন্সীগঞ্জ (মাওয়া পয়েন্ট/উত্তর পাড়), শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর (জঞ্জিরা/দক্ষিণ পাড়) জেলা ৩ টির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এই সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়।

এই সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় এবং অধিগ্রহণকৃত মোট জমির পরিমাণ ৯১৮ হেক্টর।

পদ্মা সেতুর নকশা 

সুবিশাল এই পদ্মা সেতুর সম্পূর্ণ নকশা এইসিওএমের (AECOM) নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল তৈরি করে।

বাংলাদেশের প্রথম বৃহৎ সেতু প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরি করা হয়।

অবশেষে শতভাগ সমাধান হয়েছে পদ্মা সেতুর নকশা জটিলতার।

সেতুর সর্বমোট ২২টি পিলারের মধ্যে ২০টির সমাধান আগে হলেও আটকে ছিলো ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের নকশা।

তারপর এ দুটি পিলারের সংশোধিত নকশাও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

এর ফলে কাজে গতি আসার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন প্রকল্প পরিচালক (জনাব মো: শফিকুল ইসলাম)।

৪২টি পিলার নিয়ে নির্মিত হচ্ছে দেশের কোটি মানুষের স্বপ্নের লালিত ৪ লেনের এই পদ্মা সেতু। সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কাজের সূচনা হয়েছিল মাওয়া প্রান্তে ৬ নম্বর পিলার দিয়ে। তবে সেখানেই সৃষ্টি হয়েছিল ভয়াবহ জটিলতা।

এ অংশে নদীর তলদেশের মাটির গঠনের ভিন্নতার কারণে কিছুতেই বসানো যাচ্ছিল না পিলার। ১২৪ মিটার দৈর্ঘ্যের ৬টি খুঁটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিলো এক একটি পিলার।

পদ্মা সেতুর পাইলিং গভীরতা- ৩৮৩ ফুট। পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা- ৬০ ফুট। প্রতি পিলারের জন্য পাইলিং- ৬টি। পদ্মা সেতুর মোট পাইলিং সংখ্যা- ২৬৪টি।

কবে পদ্মা সেতুর মূল কাজ শুরু হয়?

 ২০১৭ সালের অক্টোবরে মূল সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার দেড় বছরেরও বেশি সময় পরে ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর, ৪২ টির মধ্যে ৪২ টি পিলারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুর চূড়ান্ত (৪১ তম) স্প্যানটি বসানো হয় ১০ ই ডিসেম্বর ২০২০।

সমাপ্তির পরে এই সেতুটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু হবে এবং সারা বিশ্বের মধ্যে ১২২ তম হবে ।

AECOM এর নকশায় পদ্মা নদীর উপর বহুমুখী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প ‘পদ্মা বহুমুখী সেতুর’ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে।

শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে। মূল প্রকল্পের পরিকল্পনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট।

সে সময় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ব্যায়ের বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্প পাস করা হয়।

পদ্মা সেতু A to Z – পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান ২০২২

পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান
পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান

পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি ক্ষমতায় এসে প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে।

তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা।

পরবতীতে এর ব্যায় আরও বাড়ানো হয়।পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পটি তিনটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে- মুন্সীগঞ্জ (মাওয়া পয়েন্ট/উত্তর পাড়), শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর (জঞ্জিরা/দক্ষিণ পাড়)। 

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ৬ নম্বর পিলারের পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়। এরপর ৭ ও ৬ নম্বর পিলারে তিনটি করে মোট ছয়টি পাইলের বটম সেকশনের কাজ করা হয়।

কিন্তু এসব পাইল বসাতে গিয়ে নদীর তলদেশে নরম মাটির স্তর পাওয়া যায়। তখন দুটি পিলারের ৬ টি পাইলের টপ সেকশনের কাজ বন্ধ রাখা হয়।

সাময়িক ভাবে মাওয়া প্রান্তে কাজ বন্ধ রেখে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয়। পরে আরও ১২টি পিলার বসানোর সময় মাটিতে কাদামাটির নরম স্তর পাওয়া যায়।

এই পিলারগুলোর নম্বর হলো ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫।

আগের নকশা অনুযায়ী এই ১৪টি পিলারের পাইলের সংখ্যা ছিল ৮৪।

এই সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করে ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাউই (COWI) ইউকে লিমিটেড। 

পদ্মা সেতু তৈরি কারী চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান 

২০১৪ সালের ১৭ই জুন পদ্মা সেতু নির্মানে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয় বাংলাদেশ সরকার ও চীনা প্রতিষ্ঠান  “চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি”।

সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চীনের এই কোম্পানিটি পদ্মাসেতুর কার্যাদেশ পায়।

পদ্মা সেতু নির্মাণে ২০১০ সালে প্রথম দরপত্র আহবান করা হলে সেখানে প্রি কোয়ালিফিকেশনের জন্য ৪০ টিরও বেশি কোম্পানি দরপত্রে অংশ নেয়।

বিশ্বব্যাংক, জাইকা ও এডিবির তত্বাবধানে এদের মধ্য থেকে ৫ টি কোম্পানিকে বাছাই করা হয়।

পরে বিশ্বব্যাংকের আপত্তির কারণে  একটি কোম্পানি বাদ পড়ে যায়। কিন্তু আর্থিক প্রস্তাব আহ্বান করলে শুধুমাত্র চীনের এই কোম্পানিটি আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়।

অতঃপর সেতুটি তৈরির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড এর আওতাধীন চায়না মেজর ব্রীজ নামক একটি কোম্পানী।সেতুর কাজ শুরু হয় ৭ ডিসেম্বর ২০১৪। 

পদ্মা সেতুর নির্মাণব্যায়

পদ্মা সেতুর বাজেট ২০০৭ সালের  ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্প পাস করা হয়।

পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে।

তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

বর্তমান পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট খরচ করা হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩.৩৯ কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা, রক্ষণাবেক্ষন ইত্যাদি।

বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তিতে বলা হয়েছে সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার।

মোট বাজেটের ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষএকই সঙ্গে রেল ও গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে।

নির্মাণে মোট ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। সেতুর পিলার সংখ্যা মোট ৪২ টি । 

পদ্মা সেতু বিশ্বের দীর্ঘতম সেতুর তালিকায় কত নম্বরে আছে তা আপনার জানা উচিত ।

দীর্ঘতম সেতুর তালিকায় প্রথম দশটির মধ্যে থাকা সাতটি সেতুই চীন অবস্থিত।সম্পূর্ণ দৃশ্যমান হয়েছে ৬ দশমিক ১৫ কিলমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু।

আর এর মাধ্যমেই দৈর্ঘ্যের দিক থেকে সুইডেনের অল্যান্ড ব্রিজকে পেছনে ফেলে ১২২তম অবস্থানে এসেছে পদ্মা সেতু।

উইকিপিডিয়ার তথ্য বলছে, সম্পূর্ণ দৃশ্যমান হয়েছে ৬.১৫ কিলমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু।

আর এর মাধ্যমেই দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে সুইডেনের অল্যান্ড ব্রিজকে পেছনে ফেলে ১২২তম অবস্থানে উঠে এসেছে পদ্মা সেতু। 

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত ?

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য  (পানির অংশের উপর ) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। তবে ডাঙার অংশ ধরলে সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯কিলোমিটার।

পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্পান ইতিমধ্যে বসানোর কাজ শেষ হয়েছে, ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হচ্ছে দেশটির মানুষের সপ্নে লালিত সবচেয়ে বড় সেতু।

আরও পড়ুনঃ

জুনের শেষেই পদ্মা সেতু চালু ; উদ্বোধনের তারিখ চাওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ( সর্বশেষ আপডেট)

দক্ষিণ জনপদের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে ।

এ সময় পদ্মা সেতু চালু করতে প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রি ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী মাসের শেষ দিকে ইনশাল্লাহ আমরা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা সেতুর সার্বিক অগ্রগতির তথ পাঠাচ্ছি। তিনি যেদিন সময় দেবেন, ঠিক সেদিনই আমরা বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য ঘোষণা দেবো।

এর আগে গত মাসে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ পদ্মা সেতু চালুর কথা জানিয়েছিলেন।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে জুনে না কি বছরের শেষে সেতু চালু হবে তা নিয়ে মানুষের মাঝে কৌতূহল তৈরি হয়।

বিষয়টি স্পষ্ট করার কথা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমি মন্ত্রী, আমি জেনেশুনেই বলছি জুনেই পদ্মা সেতু চালু হবে।

পদ্মা সেতু সম্পর্কে ধোঁয়াশার কোনো কারণ নেই। আমরা শেষ দিকে আছি। সামান্য কিছু কাজ বাকি। তা মে মাসের মধ্যেই আমরা শেষ হবে” ।

তবে জুনে পদ্মা সেতু চালু হলেও উদ্বোধনের দিন থেকে কোনো ভাবেই ট্রেন চলাচল সম্ভব নয় বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, আগামী জুলাই থেকে সেতুতে রেলের কাজ শুরু হবে।

এক্ষেত্রে  নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ জুন ২০২২ এর মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য যথাযথভাবে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নভেম্বর ২০২১ পর্যন্ত শতভাগ (২৯১৭টি) রোডওয়ে এবং ২৯৫৯টি রেলওয়ে স্লাব স্থাপন করা হয়েছিল।

পদ্মা সেতু কবে চালু হবে

বর্তমানে আমাদের সোনার বাংলাদেশের স্বপ্নের পদ্মা সেতু A to Z কাজ শেষ পর্যায়ে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে কোন দিন পদ্মা সেতু চালু করার ঘোষণা করতে পারেন।

পদ্মা নদী 

পদ্মা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী। পদ্মা  হিমালয়ে উৎপন্ন গঙ্গানদীর প্রধান শাখা এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী এই পদ্মার উত্তর তীরে অবস্থিত।পদ্মা নদীর দৈর্ঘ্য কত এটা আমরা অনেকেই জানতে চাই।

পদ্মার সর্বোচ্চ গভীরতা ১,৫৭১ ফুট (৪৭৯ মিটার) এবং গড় গভীরতা ৯৬৮ফুট (২৯৫ মিটার)। বাংলাদেশের এই নদীটির দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১০ কিলোমিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার।

পদ্মাবতী

বাংলা সাহিত্যের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন আলাওলের অনুবাদকৃত কাব্যগ্রন্থ ‘পদ্মাবতী’।এটি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ ।

জায়সী তাঁর কাব্য রচনা করেন ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে। প্রায় তার ১০০ বছর পর আরাকানের বৌদ্ধ রাজার অমাত্য মাগন ঠাকুরের নির্দেশে আলাওল ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে পদ্মাবতী রচনা করেন।

পদ্মা সেতু কোন জেলায় অবস্থিত ?

পদ্মা সেতু কোন জেলায় অবস্থিত?-এই প্রশ্নটার উত্তর সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না । কারণ এই সেতু বিভিন্ন জেলা জুড়ে বিস্তৃত। পদ্মা সেতুর স্থান হলো -মুন্সিগন্জ,শরিয়তপুর ও মাদারিপুর। 

পদ্মা সেতুর বর্ণনা: পদ্মা সেতু A to Z

পদ্মা নদীর উৎপত্তি কোথায়?

হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গা নদী রাজশাহী জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, এখান থেকে নদীটি পদ্মা নাম ধারণ করেছে।

পদ্মা সেতুই হবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলােমিটার এবং প্রস্থ হবে ২১ দশমিক ১০ মিটার।

এই সেতুটি হবে দ্বিতল বিশিষ্ট উপর দিয়ে চলবে যানবাহন এবং নিচে চলবে ট্রেন।

সেতুটি নির্মিত হবে কংক্রিট এবং স্টিল দিয়ে ।সেতুর দুই পাড়ে প্রায় ১২ কিলােমিটার সংযােগ সড়ক নির্মিত হবে।

নদীশাসনের জন্য চীনের সিনহাইড্রো কর্পোরেশন কাজ পেয়েছে।

আর দুইপাড়ের সংযােগ সড়ক ও অবকাঠামােগত  উন্নয়নের জন্য কাজ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের আবদুল মােমেন লিমিটেডকে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বুয়েট এবং কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন অ্যান্ড অ্যাসােসিয়েটস সেতুর সার্বিক নির্মাণ কাজ তদারকি করবে।

পদ্মা সেতুর রেল সংযােগ প্রকল্পে মোট ১৪টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং ৬টি বিদ্যমান স্টেশন উন্নয়ন ও অবকাঠামাে নির্মাণ করা হবে।

নতুন ১৪টি স্টেশন হলাে— কেরানীগঞ্জ, নিমতলা, শ্রীনগর, মাওয়া, জাজিরা, শিবচর, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মুকসুদপুর, মহেশপুর, লােহাগড়া, নড়াইল, জামদিয়া ও পদ্ম বিল এবং অবকাঠামাে উন্নয়নের ৬টি স্টেশন হলাে— ঢাকা, গেণ্ডারিয়া, ভাঙ্গা, কাশিয়ানী, রূপদিয়া ও সিঙ্গিয়া।

আরও পড়ুনঃ

পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী। এই সেতু বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে।

কেননা এই সেতুর মাধ্যমে রাজধানীর সাথে এই অঞ্চলের মানুষের সরাসরি সংযােগ  ঘটায় অর্থনীতি বেগবান  হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পদ্মা সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরা হলাে-

১. শিল্পক্ষেত্রে পদ্মা সেতুর গুরুত্ব:

পদ্মা সেতু নির্মিত হলে সরাসরি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞলের সাথে সরাসরি উত্তর-পূর্বাঞলের যােগাযােগ ঘটবে।

ফলে এই অঞ্চলে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পকারখানা। তাছাড়া এই সেতুকে কেন্দ্র করে গতিশীল হবে ৩য় বৃহত্তম পায়রা সমুদ্র বন্দর।

ফলে ব্যবসায়ের প্রসারে স্থাপিত হবে নতুন শিল্পকারখানা।

২. কৃষিক্ষেত্রে পদ্মা সেতুর গুরুত্ব:

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যােগাযােগ ব্যবস্থা ভালাে না থাকায়  যাতায়াত ব্যবস্থায় দুর্ভোগের শেষ নেই।

সেতু নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা ওই অঞ্চলের মানুষ তাদের উৎপাদিত ফসলের জন্য ন্যায্য মূল্য পাবে।

ফলে ওই অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সহজেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছে যাবে। এছাড়া কৃষিক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ হবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

৩. দারিদ্র্য বিমােচনে পদ্মা সেতুর প্রভাব:

পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞলের মানুষের দারিদ্র্য বিমােচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই সেতু নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। ফলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

সহজেই এক  অঞ্চলের মানুষ কাজের জন্য অন্যান্য স্থানে যেতে পারবে। এতে বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

পদ্মা সেতুর নেতিবাচক প্রভাব: 

পদ্মা সেতুর ইতিবাচক দিক থাকলেও এর বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাবও বিদ্যমান। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নদীর দুই পাড়ের কিছু মানুষের কর্মসংস্থান কিছুটা কমে যাবে।

এক্ষেত্রে নদী পারাপারে নিয়ােজিত লঞ্চ মালিকদের ব্যবসার অবসান ঘটবে।

তাছাড়া সবাই সেতু ব্যবহার করে পারাপার করায় ফেরিঘাটে অবস্থিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তথা দোকানদার, কুলি প্রভৃতি শ্রেণির লােকদের ব্যবসা্র সমাপ্তি ঘটবে।

তবে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকার যদি এসব ক্ষতিগ্রস্ত লােকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে পদ্মা সেতুর নেতিবাচক প্রভাবগুলাে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

সেতুর সাথে পিলারের ধাক্কা 

পদ্মা সেতুর ১০ নম্বর পিলারে আবারও ফেরির ধাক্কা লেগেছে।

শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে আসার পথে কাকলি নামে একটি ফেরি পিলারে ধাক্কা দেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (দেওয়ান আব্দুল কাদের)।

বোনকে নিয়ে পদ্মা সেতুতে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী

হেঁটে স্বপ্নের পদ্মা সেতু পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে সড়কপথে গণভবন থেকে সরাসরি পদ্মাপাড়ে পৌঁছান তিনি।

যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা কার লেখা ?

ছড়াটির রচয়িতা প্রখ্যাত আইসিএস, কবি ও কথাসাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়। ছড়ার নাম ‘বঙ্গবন্ধু’।

যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি। ‘এই বাংলার আকাশ বাতাস, সাগর ও নদী/ডাকিছে তোমার বঙ্গবন্ধু, ফিরিয়া আসিতে যদি/ হেরিতে এখনও মানব হৃদয়ে তোমার আসন পাতা/ এখনও মানুষ স্মরিছে (স্বরণ করছে )তোমারে, মাতা পিতা বোন ভ্রাতা।”পদ্মা” কবিতা ফররুখ আহমদ রচিত।

বর্তমানে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে।

পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাস

শহর থেকে দূরে এ নদী এলাকার কয়েকটি গ্রামের দরিদ্র জেলে ও মাঝিদের জীবনচিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে।

জেলেপাড়ারর মাঝি ও জেলেদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না-অভাব-অভিযোগ এখানে বিশ্বস্ততার সাথে চিত্রিত হয়েছে।

পদ্মা সেতুর উচ্চ টোল দক্ষিণাঞ্চলের শিল্প বিকাশের হুঙ্কির কারণ – 

পদ্মা সেতুতে ফেরির তুলনায় পৌনে দুই গুণ টোল প্রস্তাব করা হয়েছে, এতে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে।

উচ্চ টোলের কারণে পদ্মা সেতু থেকে মানুষ যেসব আর্থিক সুবিধা এবং সাশ্রয়ের উপযোগ পাওয়ার কথা ছিল, সেটা পুরোপুরি নাও হতে পারে।

বরং উচ্চ হারের টোলের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা জনগণকে না দিয়ে বরং সরকার তা উঠিয়ে নেবে ।

সেতুকে সংযোগকারী জেলা থেকে দেশের অন্য প্রান্তে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খরচ বাড়লে দক্ষিণের জেলাগুলোর উৎপাদিত কৃষিশিল্প পণ্য কিংবা সেবা দেশের অন্য অঞ্চলের সঙ্গে মূল্য সক্ষমতায় এক হতে পারবে না। 

পদ্মা বিভাগ 

পদ্মা বিভাগ বাংলাদেশের প্রস্তাবিত একটি প্রশাসনিক বিভাগ। প্রস্তাবনা অনুসারে, বর্তমান ঢাকা বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এই পাঁচটি জেলা নিয়ে পদ্মা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হবে।

যার সদর দপ্তর হবে ফরিদপুর। পদ্মার প্রধান উপনদী মহানন্দা এবং পুনর্ভবা। পদ্মার প্রধান শাখানদী আড়িয়াল খাঁ।

পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান

পদ্মা সেতুর অফিসিয়াল নাম কী?

সাধারত জনগন পদ্মা সেতু নামে বলেলও পদ্মা সেতুর অফিসিয়াল নাম “পদ্মা বহুমুখী সেতু”।

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কত?

মোট দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিমি (২০,২০০ ফুট)  এবং প্রস্থ ১৮.১০ মি (৫৯.৪ ফুট)।

কত তারিখে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়?

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭ ডিসেম্বর ২০১৪ ইং।

পদ্মা সেতুর প্রস্থ কত?

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর প্রস্থ ৭২ ফুট। এটি ৭২ ফুটের চার লেনের একটি সড়ক।

বাংলাদেশের দীর্ঘতম রেল সেতুর নাম কী?

বাংলাদেশের দীর্ঘতম রেল সেতুর নাম হচ্ছে হার্ডিস ব্রিজ।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন হয়েছে কত কিলোমিটার?

মুন্সিগঞ্জ ও ফরিদপুর মিলিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুই পাড়ে নদীশাসন হয়েছে ১২ কিলোমিটর।

পদ্মা সেতুর মোট স্প্যান সংখ্যা কতটি?

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মোট স্প্যান সংখ্যা হচ্ছে ৪১ টি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে জনবল কতজন?

সরকারি হিসাব মতে পদ্মা সেতু A to Z প্রকল্পে জনবল প্রায় ৪ হাজার।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন ব্যয় কত?

সরকারি হিসাবে পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন ব্যয় হচ্ছে ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু নির্মাণের পরামর্শ দেয় কোন সংস্থা?

জাপানের দাতা সংস্থা ‘জাইকা’, ২০০৪ সালে।

পদ্মা সেতুর একটি পিলার থেকে অন্য একটি পিলারের দূরত্ব কত?

পদ্মা সেতুর পিলার সমুহের মধ্যবর্তী দূরত্ব ১৫০ মিটার।

প্রতিটি পদ্মা সেতুর স্প্যানের দৈর্ঘ্য কত?

পদ্মা সেতুর স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার।

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত কি মি?

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কি মি (২০,২০০ ফুট)  এবং প্রস্থ ১৮.১০ মি (৫৯.৪ ফুট)।

পদ্মা সেতু কোন জেলায় অবস্থিত?

এই প্রশ্নটির উত্তর সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ পদ্মা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন জালা জুড়ে বিস্তৃত। তাই বলা যায় মুন্সিগন্জ, শরিয়তপুর ও মাদারিপুর এই তিনটি জেলায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু অবস্থিত।

আরও পড়ুনঃ

স্বপ্নের পদ্মা সেতু সম্পর্কে ১০টি বাক্য 

পদ্মা সেতু a to z আর্টিকেলে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, 

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে পদ্মা সেতু।

জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ২১ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা।

আর্থিক অগ্রগতির হার ৭১ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং আর বাস্তবিক অগ্রগতি আরও বেশি ৭৭ শতাংশ।

পদ্মা ও মেঘনার মিলিত স্থানচাঁদপুরের কাছে পদ্মা-মেঘনার মিলিত ধারাটি মোহনা নামে পরিচিত।

এখান থেকে আনুমানিক ৯০ মাইল দক্ষিণে চারটি মোহনা পথে মেঘনা বঙ্গোপসাগরে মিলেছে। এগুলোর স্থানীয় নাম তেঁতুলিয়া, শাহবাজপুর, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া। 

উপসংহার

আশা করি আপনারা পদ্মা সেতু A to Z সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান ২০২২ সম্পর্কে কোন তথ্য না পেয়ে থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানান।

বাংলাদেশীদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু A to Z সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য সামনের দিন গুলিতে আমাদের ব্লগে প্রকাশ করা হবে।

বাংলাদেশের খবর নয়মিত পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।