নিজের লাগানো গাছ কাটতেও এখন অনুমতি নিতে হবে। বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির নির্দিষ্ট প্রজাতির গাছ কাটতে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইনটি ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির সম্মতিলাভের পর এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
প্রধান বন সংরক্ষক বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব অর্পণ করবেন। গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকায় থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির গাছ কাটতে এই অনুমতি লাগবে।
কোনো ব্যক্তি গাছ কাটতে চাইলে বৃক্ষের প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুক সমান উচ্চতায় বেড় এবং কর্তনের কারণ উল্লেখ করে ফরম ‘ক’ পূরণ করে আবেদন করতে হবে। বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেবেন।
তবে কর্তন নিষিদ্ধ তালিকার গাছ কোনোভাবেই কাটা যাবে না। বন অধিদপ্তর কর্তৃক রক্ষিত বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো গাছও কাটা যাবে না।
যেসব গাছ কাটতে অনুমতি লাগবে না
আইনে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। রোগাক্রান্ত বা মৃত গাছ, ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ, সড়ক যোগাযোগে বাধা সৃষ্টিকারী গাছ এবং বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ কাটতে পূর্বানুমোদন লাগবে না।
কর্তন নিষিদ্ধ এবং অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য তালিকার বাইরে থাকা অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রজাতির গাছ বা গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক ব্যবহৃত গাছ কাটতেও অনুমোদন লাগবে না।
কী শাস্তি রয়েছে
কর্তন নিষিদ্ধ তালিকার গাছ কাটলে ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য তালিকার গাছ অনুমতি ছাড়া কাটলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। বাণিজ্যিকভাবে চাষকৃত গাছ ছাড়া অন্য গাছে পেরেক বা ধাতব বস্তু মারলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা হবে।
উভয় ক্ষেত্রেই আদালত অতিরিক্ত শাস্তি হিসেবে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের নির্দেশ দিতে পারবেন।
অনুমোদন দিলে কী করতে হবে
বৃক্ষ কর্তনের আবেদন মঞ্জুর করা হলে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নিশ্চিত করবেন যে কর্তিত গাছের বিপরীতে আবেদনকারী একই এলাকায় নির্দিষ্ট প্রজাতির নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ রোপণ করবেন।
এই ব্যবস্থাকে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন বলা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো গাছ কাটার কারণে পরিবেশের যে ক্ষতি হয় তা পূরণ করা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে আলাদা নিয়ম
পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌজা রিজার্ভে গাছ কাটার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সেখানে চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন, ১৯০০ এর অধীন প্রণীত রুলস ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস, ১৯০০ এর রুল ৪১এ প্রযোজ্য হবে।
এই আইনের পটভূমি
১৯২৭ সালের বন আইনে সংরক্ষিত ও রক্ষিত বন ব্যবস্থাপনার বিধান থাকলেও সংরক্ষিত এলাকার বাইরে এবং গণপরিসরে বৃক্ষ সম্পদ সংরক্ষণের কোনো নিয়ম ছিল না। বনভূমির ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেরও বিধান ছিল না।
এছাড়া বনের বাইরে বৃক্ষ সম্পদের সংরক্ষণ, ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমির গাছ কাটার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বিদ্যমান আইন অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল। এসব বিবেচনায় নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
আইনটির উদ্দেশ্য হলো বনভূমির দখল প্রতিরোধ, বনভূমির পরিমাণ হ্রাস রোধ এবং বৃক্ষ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।