ঘরে বসেই এনআইডি সংশোধন করবেন যেভাবে

ঘরে বসেই জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সংশোধন করা যাবে। নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সেবার মাধ্যমে এই কাজ করা যায়।

এনআইডি সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। প্রথমে ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

নিবন্ধনের সময় মোবাইল নম্বর ও এনআইডি নম্বর দিতে হবে। মোবাইলে একটি ওটিপি কোড আসবে। সেই কোড দিয়ে নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে।

এরপর লগইন করে ‘এনআইডি সংশোধন’ অপশনে যেতে হবে। সেখানে সংশোধনের ধরন নির্বাচন করতে হবে।

নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা—যে তথ্য সংশোধন করতে চান, সেটি বেছে নিতে হবে।

সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। কাগজপত্র স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য হতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের পর আবেদন নিশ্চিত হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন। এই নম্বর দিয়ে আবেদনের অবস্থা জানতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশন আবেদন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। যাচাই শেষে সংশোধিত এনআইডি ডাকযোগে পাঠানো হবে।

সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধিত এনআইডি পাওয়া যায়। তবে আবেদনের সংখ্যা বেশি হলে সময় লাগতে পারে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অনলাইনে আবেদন করলে সময় ও হয়রানি দুটোই কমে। ঘরে বসেই সব কাজ করা যায়।’

তিনি আরও জানান, ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে তা বাতিল হতে পারে। তাই সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি।

এনআইডি সংশোধনের সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য জন্মনিবন্ধন সনদ দিতে হবে।

নাম সংশোধনের জন্য শিক্ষাগত সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি দিতে হবে।

ঠিকানা সংশোধনের জন্য বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা টেলিফোন বিলের কপি দিতে হবে।

সব কাগজপত্র আপলোড করার পর আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর সেটি যাচাই করা হবে।

যাচাই শেষে সংশোধন অনুমোদিত হলে নতুন এনআইডি তৈরি করা হবে। এরপর ডাকযোগে তা গ্রাহকের ঠিকানায় পাঠানো হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এনআইডি সংশোধনের জন্য কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। নিজেই অনলাইনে আবেদন করা যায়।

বর্তমানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করছেন। এই সেবা চালু হওয়ার পর মানুষের ভোগান্তি অনেক কমেছে।

ভবিষ্যতে এনআইডি সংশোধনের প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

Leave a Comment