সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চলছে ১৩টি এলাকায়। তবে এখনো দেশব্যাপী আবেদন শুরুর ঘোষণা আসেনি। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু না হলেও যেসব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে, তার তালিকা পাওয়া গেছে।
ফ্যামিলি কার্ড পেতে কোনো টাকা লাগে না। দালালকে টাকা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
ফ্যামিলি কার্ড কীভাবে মিলবে
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অর্থ সরাসরি পরিবারের নারীর, বিশেষ করে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে যাবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকবে না। শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া ঘরে বসে অনলাইনে আবেদনের জন্য পোর্টাল চালুর প্রস্তুতি চলছে।
আবেদন করতে যেসব কাগজ লাগবে
পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। তবে প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নিচের কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে।
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি লাগবে। পরিবারের প্রধান যদি মহিলা হন, তাহলে তাঁর এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন লাগবে।
পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে। একটি সচল মোবাইল নম্বর অবশ্যই থাকতে হবে।
একটি সচল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট, যেমন বিকাশ বা নগদ, অথবা বৈধ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে।
স্বামীর এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন, সন্তানদের এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন হবে। যে সন্তানের এনআইডি নেই, তার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
কে পাবেন না
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়ায় একটি নেতিবাচক তালিকা সংযোজন করা হয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী বা নিয়মিত পেনশনভোগী হলে কার্ড পাবেন না।
৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে, চার চাকার মোটরযান থাকলে, নিয়মিত আয়করদাতা হলে কার্ড পাওয়া যাবে না। বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০ দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে সেই পরিবারও কার্ডের আওতায় আসবে না।
পাইলট প্রকল্প কোথায় চলছে
প্রথম ধাপে ১৩টি ওয়ার্ডে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কোরাইল বস্তি, বানানী, ঢাকা; পাংশা, বাজবাড়ি; পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম; বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া; লামা, বান্দরবান; খালিশপুর, খুলনা।
চরফ্যাশন, ভোলা; দিরাই, সুনামগঞ্জ; ভৈরব, কিশোরগঞ্জ; বগুড়া সদর; লালপুর, নাটোর; ঠাকুরগাঁও সদর এবং নবাবগঞ্জ, দিনাজপুরেও পাইলট কার্যক্রম চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজারের বেশি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
অর্থ কত পাওয়া যাবে
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতি পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। বছরে প্রতি পরিবারের জন্য ব্যয় হবে ৩০ হাজার টাকা।
পরবর্তী অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাঁচ বছরে মোট ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারে পৌঁছানোর পরিকল্পনা আছে।
ফ্যামিলি কার্ড স্মার্ট কার্ড হবে। এতে এনএফসি ও চিপ থাকবে। টাকা পে অ্যাপলেট যুক্ত থাকবে, যা দিয়ে এটিএম থেকে টাকা তোলা যাবে।
দালাল থেকে সাবধান
ফ্যামিলি কার্ড পেতে কোনো টাকা লাগে না। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কুমিল্লার চান্দিনায় ফ্যামিলি কার্ড চালু হওয়ার আগেই ৫৯ নারীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা ও কাগজপত্র নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় যুবদল ও বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রায় এক মাস পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।