একজনের নামে ৫টির বেশি সিম নেওয়া যাবে না বলে নতুন নিয়ম জারি করেছে সরকার। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা দিয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫টি সিম কিনতে পারবেন। এর বেশি সিম নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অপরাধ দমনে এবং সিমের অপব্যবহার রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
বর্তমানে একজন ব্যক্তির নামে অনেক বেশি সিম নেওয়া যায়। এতে বিভিন্ন অপরাধে সিমগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিম দিয়ে প্রতারণা, হয়রানি ও অন্যান্য অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে।
মোবাইল অপারেটরগুলোকে এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপারেটরদের এখন থেকে প্রতিটি গ্রাহকের তথ্য যাচাই করতে হবে। ভেরিফিকেশন ছাড়া নতুন সিম দেওয়া যাবে না।
একজন মোবাইল অপারেটরের কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা গ্রাহকের তথ্য যাচাই করেই সিম দিচ্ছি। নতুন নিয়ম মেনে কাজ চলছে।’
তিনি আরও জানান, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ছাড়া নতুন সিম বিক্রি করা হবে না।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধনের সময় গ্রাহকের আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিতে হবে।
একজন ভোক্তা বলেন, ‘একজনের নামে অনেক সিম থাকলে অপরাধ বাড়ে। নতুন নিয়ম ভালো উদ্যোগ।’
আরেকজন বলেন, ‘আমার ব্যবসার জন্য ৩টি সিম লাগে। ৫টির সীমা আমার জন্য ঠিক আছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিয়ম চালু হলে সিম ভিত্তিক অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে। তবে কঠোর মনিটরিং দরকার।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন জানিয়েছে, সব অপারেটরের তথ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে। নিয়ম ভঙ্গ হলে জরিমানা করা হবে।
বর্তমানে দেশে মোট সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে অনেক সিম নিষ্ক্রিয় বা অনিবন্ধিত।
সরকার জানিয়েছে, নিয়ম চালু হলে অনিবন্ধিত সিম বন্ধ হয়ে যাবে। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হবে।
মোবাইল অপারেটরগুলো এখন গ্রাহকদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে জানাতে শুরু করেছে।
ভবিষ্যতে এই নিয়ম আরও কঠোর করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সাধারণ মানুষ নতুন এই নিয়মকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। কারণ এতে তাদের নিরাপত্তা বাড়বে।