ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার সাত সাবেক অধিনায়কের চিঠি

কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খানের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে সরব হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাতজন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। তাঁরা অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংকে চিঠি লিখে ইমরান খানের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার জন্য পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বিষয়টি উত্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যালান বর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়াহ। ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন এবং দুর্নীতির মামলায় তাঁর সাজা হয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।

সাবেক এই অধিনায়করা স্পষ্ট করেছেন যে তাঁরা ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না। তাঁরা এটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে তাঁরা কারাগারে বন্দি যেকোনো ব্যক্তির প্রতি আচরণকে ‘মৌলিক মানবিকতা’র প্রশ্ন বলে বর্ণনা করেছেন।

গ্রেগ চ্যাপেল বলেছেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তিনি কারাগারেই মারা যাবেন।’ তিনি ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি একটি মানবিক ইস্যু, কোনো আইনি বা রাজনৈতিক বিষয় নয়’।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে ইমরান খান যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন গ্রেগ চ্যাপেল তাঁকে সুস্থ ও সবল অবস্থায় দেখেছিলেন। সেই চিত্রের সঙ্গে বর্তমান কারাগারের খবরের কোনো মিল নেই।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া নিয়মিতভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে ইমরান খানের বিষয়টি উত্থাপন করে। তিনি বলেন, ‘আমরা কর্তৃপক্ষকে তাঁর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য উৎসাহিত করে যাচ্ছি’।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসার দাবিতে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। সেই তালিকায় ভারতের সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেবও ছিলেন।

গত মাসে ২২ জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে চিঠি লিখে ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান।

ওই চিঠিতে ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর উদ্বেগজনক রিপোর্টের কথা উল্লেখ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে পরে তাঁকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সে নেওয়া হয়।

পাকিস্তান সরকার ইমরান খানের প্রতি অন্যায় আচরণের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাঁর কারাবাস ‘পাকিস্তান কারাগার বিধিমালা, প্রযোজ্য বিচারিক নির্দেশনা এবং একজন হাই-প্রোফাইল বন্দির জন্য প্রযোজ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইমরান খানকে ‘ঘরে রান্না করা খাবার, ব্যায়ামের সরঞ্জাম এবং উপযুক্ত খাদ্য সুবিধা’ দেওয়া হচ্ছে। একক কারাবাস, নিষ্ঠুরতা বা বঞ্চনার অভিযোগও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম এবং মঈন খানও ইমরান খানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও এর আগে তাঁর জন্য চিকিৎসার দাবি জানিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস পার্টির পররাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র ডেভিড শুব্রিজ বলেছেন, পাকিস্তানি-অস্ট্রেলিয়ান সম্প্রদায় ইমরান খানের প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘অনেক অস্ট্রেলিয়ানের কাছে ইমরান খান স্নেহের পাত্র, আমরা তাঁকে ক্রিকেট জগতের একজন মার্জিত নেতা হিসেবে দেখেছি’।

বর্তমানে ইমরান খানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলের উদ্বেগ ও appeals অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার তাঁর প্রতি কোনো ছাড় বা সমঝোতার সম্ভাবনা নাকিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment