টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং একজন সাব-ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে লোহার রডের জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন এই সেতুর ঘটনা গত রোববার রাতে ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন সোমবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। এর পরপরই তিনি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।
সেতু নির্মাণের প্রকল্পের তথ্য
বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণ করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এবং নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি। তবে সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।
ঠিকাদারের যুক্তি ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাইয়ে চার ইঞ্চি পুরুত্ব ছিল এবং কিছু জায়গায় রড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান জানিয়েছেন, নিয়ম হলো একটি জায়গায় সুন্দরভাবে ঢালাই করে তারপর ফুটপাতের স্ল্যাব বসানো। কিন্তু ঠিকাদাররা তা না করে সরাসরি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে শাটারিং করে সামান্য রড দিয়ে ঢালাই করেছে, যা নিয়মের মধ্যে পড়েনি।
প্রকৌশলী বরখাস্ত ও মামলা
এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বাসাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেছেন, সরকার যে টাকা দিয়েছে, সেই টাকা কোথায় গেল, সেখানে এত দুর্নীতি কেন হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা আজিজ মিয়া জানিয়েছেন, সেতুর কাজ দিনের বেলায় করার কথা থাকলেও ঠিকাদাররা রাতে কাজ করতেন এবং বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিতেন। স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে ফেলে আবার সঠিকভাবে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।