মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে কথা রাখতে পারেনি বিএনপি

মানবাধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সংসদে পাস হওয়া তিনটি আইন মানবাধিকার সুরক্ষার পূর্বের অগ্রগতিকে উল্টো দিকে নিয়ে গেছে।

এইচআরডব্লিউ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু নতুন সরকার সেই অধ্যাদেশ নবায়ন না করে বাতিল হতে দেয় এবং এর বদলে নতুন আইন পাস করে।

এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া বিভাগের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেছেন, ‘অতীতের ভয়াবহ নির্যাতন ফিরে আসা রোধ করতে বাংলাদেশের প্রকৃত নিরাপত্তা খাত সংস্কার এবং স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা দরকার।’

যা পরিবর্তন করা হয়েছে

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশন সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না, শুধু সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছ থেকে রিপোর্ট চাইতে পারবে।

কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাজেট ও প্রশাসনিক স্বাধীনতাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা এনপিএম-এর স্বাধীনতাও হ্রাস করা হয়েছে।

জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আইন

জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে এনএইচআরসিকে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

নতুন আইনে অভিযুক্ত সংস্থার বাইরে থেকে সরকার অন্য একটি নিরাপত্তা সংস্থা নিয়োগ করে তদন্ত করবে। গোপন আটক কেন্দ্রসহ আটক সুবিধা পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

কমান্ড দায়িত্বের আইনি মানদণ্ডও পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে রোম স্ট্যাটিউটের ভিত্তিতে কমান্ডিং অফিসারকে দায়বদ্ধ করা যেত। এখন সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ ছাড়া কমান্ডিং অফিসারকে দায়ী করা যাবে না।

র‍্যাবের নাম পরিবর্তন

১০ সেপ্টেম্বর সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন পাস করা হয়। এর মাধ্যমে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করা হয়।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রও র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

এইচআরডব্লিউ বলছে, নাম পরিবর্তন করলেও বাহিনীটির জন্য নিয়মিত পুলিশের চেয়ে কম সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে করে দায়মুক্তি বজায় থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি নেই

প্যারিস প্রিন্সিপলস অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের তদন্ত ক্ষমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং পর্যাপ্ত সম্পদ থাকতে হয়। নতুন আইন সেই মানদণ্ড পূরণ করে না বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই আইনগুলোর ফলে বিএনপি সরকারের মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

Leave a Comment