২৪ দিনে ঘুষ ডট সাইটে প্রায় ১৯ হাজার অভিযোগ, ঘুষ চাওয়ার অঙ্ক কত

দুর্নীতি প্রতিরোধে চালু হওয়া ওয়েবসাইট ‘ঘুষ.সাইট’–এ ২৪ দিনে প্রায় ১৯ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। এই সময়ে ঘুষ চাওয়ার মোট অঙ্ক ৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বেশি।

ওয়েবসাইটটির পরিচালনা পর্ষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৬৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে ১ কোটি ২৩ লাখ ৮২ হাজার টাকার বেশি ঘুষের ঘটনা সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এ ছাড়া ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সরকারি অফিস, থানা, ভূমি অফিস ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে। অনেক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন।

ওয়েবসাইটটির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযোগের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। এটি প্রমাণ করে মানুষ আর ঘুষ দিতে চায় না।’

তিনি আরও জানান, অভিযোগগুলো যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘুষ চাওয়ার পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১ লাখ টাকার বেশি ঘুষের অভিযোগ অনেক বেশি। এর মধ্যে ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষের ঘটনা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে।

একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘জমি রেজিস্ট্রির জন্য ৩ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে কাগজ আটকে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে।’

অন্য এক অভিযোগে একজন ভুক্তভোগী লিখেছেন, ‘থানায় জিডি করতে গেলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। পরে ঘুষ দিতে না পারায় অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।’

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘ভর্তির জন্য ২ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে, না দিলে বেড দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ‘ভর্তি ও পরীক্ষার ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুষের অভিযোগ এত বেশি পাওয়ার অর্থ হলো এই সমস্যাটি সমাজের গভীরে ছড়িয়ে আছে। এর থেকে মুক্তি পেতে শুধু ওয়েবসাইট নয়, কঠোর আইনি ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

দুর্নীতি দমন কমিশন বলছে, অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কিছু অভিযোগ তদন্ত শুরু হয়েছে।

সাধারণ মানুষ এই ওয়েবসাইটটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এটি ঘুষের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

ওয়েবসাইট পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, অভিযোগের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তাও দেওয়া হবে। অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

সরকার বলছে, ঘুষমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঘুষ.সাইট সেই উদ্যোগের একটি অংশ।

আগামী দিনে এই ওয়েবসাইটে অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ মানুষ এখন আর ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দ্বিধা করছেন না।

বর্তমানে ওয়েবসাইটটিতে অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির হার পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Comment