বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ দারিদ্র্য মানচিত্র অনুযায়ী, দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে বরিশালে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি এবং চট্টগ্রামে সবচেয়ে কম। বরিশাল বিভাগে দারিদ্র্যের হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে চট্টগ্রাম বিভাগে এই হার ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।
‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২: স্মল এরিয়া এস্টিমেশন (এসএই), জেলা ও উপজেলা ফলাফল’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রকাশ করা হয়।
এই তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় বরিশালে দারিদ্র্যের হার সামান্য বেড়েছে। ২০১৬ সালে বরিশালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা ২০২২ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশে।
অন্যদিকে, ২০১৬ সালে দেশের সর্বোচ্চ দারিদ্র্যপীড়িত বিভাগ ছিল রংপুর, যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০২২ সালে রংপুরে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিবিএসের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে শহরাঞ্চলে এই হার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
জেলা পর্যায়ে সবচেয়ে দরিদ্র জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মাদারীপুর, যেখানে দারিদ্র্যের হার ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দারিদ্র্যপীড়িত জেলা নোয়াখালী, যেখানে এই হার মাত্র ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
উপজেলা পর্যায়ে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি, ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ। বিপরীতে, ঢাকার পল্টন থানা এলাকায় দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে কম, মাত্র ১ শতাংশ।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকায় দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ১ শতাংশ, যা রাজধানীর বাইরে সর্বনিম্ন।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘দারিদ্র্য মানচিত্রের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে সরকার বিশেষ ক্ষেত্রে যেখানে সহায়তা প্রয়োজন সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।’
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন লসন পার্চমেন্ট এবং বিশ্বব্যাংকের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ ও ভুটানের অ্যাক্টিং অপারেশন ম্যানেজার এস আমের আহমেদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে (হেইজ) ২০২২-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনেও বরিশালকে সর্বোচ্চ দারিদ্র্যপীড়িত বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
সে সময় বিবিএস জানিয়েছিল, বরিশালে দারিদ্র্যের হার ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ, যা মানচিত্র ২০২২-এর চূড়ান্ত হিসাবে কিছুটা ভিন্ন।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। অন্যদিকে রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে দারিদ্র্যের হার কমেছে।
দারিদ্র্য পরিমাপে বিবিএস ‘কস্ট অব বেসিক নিডস’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা খাদ্য ও অখাদ্য পণ্যের একটি নির্দিষ্ট ঝুড়ির খরচ হিসাব করে।