বাবা-মায়ের ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবা-মায়ের ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রেস সচিব এই তথ্য জানান ।

আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ শুধু দেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ।

ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, একজন সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের বাবা ও মা উভয়েই জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।

প্রেস সচিব আরও জানান, এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতিত্ব করছেন।

এটি বাংলাদেশের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভাষণের বিষয়বস্তু

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নতুন বাংলাদেশের ভিশন উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো করা হবে।

তিনি আরও জানান, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সুফলও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হবে।

জলবায়ু কূটনীতি জোরদার করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি পৃথক জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগ খোলা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীর সফরে রোহিঙ্গা সংকট প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এবং সাইড ইভেন্ট আয়োজন করবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি সাইড ইভেন্ট আয়োজন করব।’

তিনি জানান, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এজেন্ডায় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে বাংলাদেশ কাজ করে যাবে।

সাইডলাইনে বিভিন্ন বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সাইডলাইন ইভেন্টে অংশ নেবেন।

এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ।

তিনি ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, কুয়েত, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও হেড অব ডেলিগেশনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

ইউরোপীয় কমিশন, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করবেন।

২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া ব্রেকফাস্ট সংবর্ধনায় অংশ নেবেন।

একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন।

ভুটানের শেরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Comment