আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে কোনো পেমেন্ট হলে সেই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয়, গ্রাহকবান্ধব ও মার্চেন্টদের পেমেন্ট গ্রহণে উৎসাহিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।
এর ফলে আগে বড় মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে যেভাবে এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করতে হতো, সেই অপেক্ষা শেষ হবে ।
যে চারটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
প্রথম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক সব পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দিতে হবে। ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের যে সার্কুলারে কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিজেরাই সেটেলমেন্ট সময় নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেটি বাতিল করা হয়েছে ।
দ্বিতীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে ব্যাংক, এমএফএস ও পিএসপির মোবাইল অ্যাপের হোম পেজের নিচে মাঝখানে বাংলা কিউআরের আইকন দৃশ্যমান রাখতে হবে । বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখের সার্কুলারে বর্ণিত লোগো অনুযায়ী এই আইকন দেখাতে হবে ।
তৃতীয় নির্দেশনায় ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শুধু সরাসরি কিউআর স্ক্যান নয়, গ্যালারি থেকে বাংলা কিউআরের ছবি আপলোড করেও পেমেন্ট করার সুবিধা চালু করতে হবে ।
চতুর্থ নির্দেশনায় ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কার্ডধারীসহ সব সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবধারীকে মোবাইল অ্যাপ থেকে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে লেনদেন করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে ।
কেন এই উদ্যোগ
এর আগে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুধু ছোট ও প্রান্তিক মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সেটেলমেন্ট চালু করা হয়েছিল । বড় মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই সেটেলমেন্টের সময় নির্ধারণ করত ।
অনেক সময় পেমেন্টের টাকা মার্চেন্টের হিসাবে না আসায় ডিজিটাল পেমেন্টে আগ্রহ কমছিল। নতুন নিয়মে সব মার্চেন্টের ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক জমা নিশ্চিত করা হবে।
গ্রাহকরা কী সুবিধা পাবেন
নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকরা অ্যাপ খুললেই হোম পেজের নিচে মাঝখানে বাংলা কিউআরের আইকন দেখতে পাবেন। এতে লেনদেন করতে সহজ হবে ।
ছবি আপলোড করে পেমেন্টের সুবিধা চালু হলে যাদের ফোনে সরাসরি স্ক্যান করা সম্ভব নয়, তারাও পেমেন্ট করতে পারবেন ।
সব সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবধারীর জন্য এই সুবিধা চালু হলে আরও বেশি মানুষ বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪-এর ১৮(২) ধারার আওতায় এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে । সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।