দেশে কম দামি বা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩ টাকা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শুধুমাত্র নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। মধ্যম, উচ্চ এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এনবিআর এই প্রজ্ঞাপন জারি করে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছিল। এর দুই মাসের মাথায় এই স্তরের সিগারেটের দাম আরও ৩ টাকা বাড়ানো হলো।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মধ্যম স্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯২ টাকা বহাল থাকছে। উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ২১০ টাকা বা তার বেশি থাকছে।
অন্য স্তরের দাম অপরিবর্তিত
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিম্নস্তরের বাদে অন্য তিন স্তরের সিগারেটের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বাজেটে নির্ধারিত ৯২ টাকাই রয়েছে।
উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম বা অতি-উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ২১০ টাকা ও তদূর্ধ্ব বহাল রাখা হয়েছে।
বাজেটে মধ্যম স্তরের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ফ্লেভার ক্যাপসুল সিগারেটে নিষেধাজ্ঞা
একই প্রজ্ঞাপনে ফ্লেভার-ক্যাপসুলযুক্ত সিগারেটের সরবরাহে কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য উদ্বেগের কারণে নিম্ন মূল্য স্তরে এই ধরনের সিগারেট সরবরাহ করা যাবে না।
নতুন বিধান অনুযায়ী, ফ্লেভার-ক্যাপসুল সিগারেট মধ্যম মূল্য স্তরের নিচে বাজারজাত করা যাবে না। অর্থাৎ এই ধরনের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কমপক্ষে ৯২ টাকা হতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিম্ন মূল্য স্তরে ফ্লেভার-ক্যাপসুল সিগারেটের সহজলভ্যতা ধূমপায়ীর সংখ্যা বাড়াতে পারে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই বিবেচনায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, সিগারেটের প্যাকেটে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, শলাকা সংখ্যা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য স্পষ্টভাবে, দৃশ্যমানভাবে এবং মুছনযোগ্যভাবে মুদ্রিত করতে হবে। নতুন বিধানটি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।
রাজস্ব ঘাটতির প্রেক্ষাপট
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সিগারেট খাত থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছে এনবিআর। এই অবস্থায় রাজস্ব আদায়ে গতি ফেরাতে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাপ্তরিকভাবে এমআরপি বাড়ানো হলেও খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের ওপর এর বাড়তি কোনো প্রভাব পড়বে না।
তবে এনবিআরের এই যুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বর্তমানে বাজারে এমনিতেই সরকার নির্ধারিত ৬২ টাকা এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে নিম্নস্তরের সিগারেট। খুচরা পর্যায়ে ১০ শলাকার একেকটি প্যাকেট ইতোমধ্যেই ৭০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত পাঁচ বছরে দেশে বছরে মোট ৭৭ থেকে ৮৫ বিলিয়ন শলাকা সিগারেট বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে কেবল নিম্নস্তরের সিগারেটের পরিমাণই ছিল ৬০ শতাংশ থেকে ৬৪ শতাংশ।
বর্তমানে দেশে বিক্রি হওয়া সিগারেটের মোট মূল্যের প্রায় ৮৩ শতাংশই বিভিন্ন কর হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হয়।