বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা লাভ সুবিধা কমিশন ও খোলার নিয়ম

বিকাশ-এজেন্ট-ব্যবসা-লাভ-সুবিধা-কমিশন-খোলার-নিয়ম

আমাদের আজকের এই পোস্ট বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা লাভ সুবিধা, বিকাশ এজেন্ট, বিকাশ এজেন্ট কমিশন ও খোলার নিয়ম সম্পর্কে।বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা এখন খুবই ভাল একটি খুদ্র ব্যবসা। দেশে অনেকেই যুবক এখন বিকাশ ব্যবসা করে অনেক টাকা সাবলম্বি।

এই সম্পর্কে পূর্বে আলাদা ৩ টি পোস্টে আলোচনা করেছি ।

একটু সচেতন হলেই বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করে ভালো টাকা  আয় করা যায়।এই পোষ্টে আমারা বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা সম্পর্কিত আপনার প্রশ্ন সমূহ সম্পর্কে আলোচনা করব।

কিভাবে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা শুরু করা যায় করা যায় । কিভাবে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করে কত টাকা আয় করা সম্ভব।

বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা লাভ সুবিধা অসুবিধা ও অন্যান্য প্রশ্ন সম্পর্কিত সকল তথ্য দেখে নিন

মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিকাশ এখন দেশের সেরা। তাই বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায় আপনি মূলত কমিশন পাবেন । আপনার সেলস বা লেনদেন যত বেশি হবে আপনি তত বেশি টাকা আয় করতে পারবেন।

পোষ্টের শুরুতেই আপনাদের জানবো কিভাবে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলবেন। বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলতে আপনার কি কি কাজ পত্র প্রয়োজন। আপনি একটি বিকাশ এজেন্ট ২ টি উপায়ে খুলতে পারবেন।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা সুবিধা লাভ ও খোলার নিয়ম

  1. বিকাশ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে 
  2. আপনার এলাকার বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিস থেকে

নিজস্ব এলাকার বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিস থেকে বিকাশ এজেন্ট খোলা সঠিক ও সহজ । সব কাগজপত্র এবং তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর ব্যবসা করার অনুমতি দেবে প্রতিষ্ঠান।

  • যিনি এজেন্ট হতে চান তার ফটো আইডি ।
  • এখানে আপনি জাতীয় পরিচয় পত্র বা স্মার্ট আইডি/ পাসপোর্ট/ ড্রাইভিং লাইসেন্স যে কোন একটি ব্যাবহার করতে পারেন।
  • ট্রেড লাইসেন্স ।
  • যোগাযোগ নম্বর ।
  • ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নাম  ।

ট্রেড লাইসেন্স কি , ট্রেড লাইসেন্স করতে কি প্রয়োজন ?

এককথায় এটি একটি ব্যবসায়ি সনদ ও বলতে পারেন। আপনি যে এলাকায় ব্যবসা করছেন সে এলাকার এউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি করপরেশান থেকে আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে ।

ট্রেড লাইসেন্স নিতে আপনাকে হাল-নাগাদ খাজনা দেয়া রসিদ, জাতীয় পরিচয় পত্র বা স্মার্ট আইডি এবং আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চুক্তির কাগজ পত্র সহ উপরোক্ত যে কোন একটি অফিসে যেতে হবে ।

বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা কোথায় দিবেন বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা ?

লোকেশন নির্ধারণ যে কোন ব্যবসা জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তেমনি বিকাশ ব্যবসা করার জন্য আপনাকে সঠিক জায়গাটি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

লোক-সমাগম বেশি হয় এমন জায়গায় বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করা বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু আপনি কি পরিমান টাকা ইনভেস্ট করতে পাবেন তাও লক্ষ রাখতে হবে।

উপরে আমি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসাকে ভাল একটি খুদ্র ব্যবসা বলেছিলাম। কিন্তু স্থান ভেদে বিকাশ এখন লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা ।

  • হাট-বাজার,
  • শিল্প প্রতিস্থানের আসে-পাসে,
  • বাস-স্ট্যান্ড,
  • শপিং-মল ইত্যাদি জায়গা এ ব্যবসার জন্য আদর্শ স্থান।
  • এছাড়া শহরে রাস্তার পাশে বিভিন্ন পয়েন্ট এ এখন বিকাশ ব্যবসা করছেন অনেকেই।

তবে আজকাল বেশির ভাগ মানুষ নিজস্ব ব্যবসার পাশাপাশি বিকাশ ব্যবসা করেছে।এটা টাকা থাকে ক্যাশ টাকা বাড়ানোর আরও একটি সহজ উপায় ।

বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে কত টাকা মূলধন লাগে ?

এই প্রশ্নে আপনাকে বলতে পারি যে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে বেশি টাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আগেই বলেছি স্থান ভেদে বিকাশ এখন লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা ।

প্রথম দিকে আপনি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ  টাকায় এই ব্যবসা শুরু করা যায়। বিকাশ এজেন্ট এ টাকা লেনদেন কোন লিমিট নেই। আপনি যত বেশি টাকা লেনদেন করবেন আপনার লাভ তত বেশি ।

বিকাশ এজেন্ট লাভ বা কমিশন কত ?

বর্তমানে বিকাশ এজেন্ট লাভ ২ ভাগে বিভক্ত। ম্যানুয়ালি USSD Code *247# ডায়াল করে বিকাশ করলে আপনি এক ধরনের কমিশন । আবার বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ ব্যাবহারে পাবেন একটু বাড়তি কমিশন।

পদ্দতি কমিশন প্রতি হজারে বাড়তি কমিশন
USSD Code *247# ৪.১০ টাকা
বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ ৪.৩০ টাকা ০.২০ টাকা
৯০% ট্রানজেকশন অ্যাপ থেকে বাড়তি ০.২০ টাকা  মোট ৪.৫০ টাকা

USSD Code *247# ডায়াল করে কমিশন

বিকাশ এজেন্ট থেকে  *247# ডায়াল করলে ক্যাশইন করলে কমিশন পাবেন প্রতি হাজারে ৪.১০% ( ৪ টাকা ১০ পয়সা) । যদি আপনি ১০,০০০ ( দশ হাজার ) টাকা ক্যাশইন করেন তবে ৪১ টাকা কমিশন পাবেন ।

ইউসডি কোড ডায়াল করে ক্যাশ আউট করলেও আপনি সম-পরিমান টাকা ৪.১০% কমিশন পাবেন ।

যেমন, যদি আপনার বিকাশ এজেন্ট একাউন্টে ৫০০০ টাকা ক্যাশ-আউট করে তবেও আপনি ২০.৫০( ২০ টাকা ৫০ পয়সা ) টাকা কমিশন ।

মোট আপনার একাউন্টে ৫০০০+ ২০.৫০=৫০২০.৫০ টাকা যোগ হবে।

USSD Code *247#  কমিশন 
ক্যাশ ইন ১০০০ টাকা ৪.১০ টাকা
ক্যাশ ইন ১০০০০ টাকা হলে ৪১ টাকা

বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ থেকে ক্যাশইন করলে কমিশন 

বিকাশ পার্সোনাল গ্রাহকদের জন্য যেমন অ্যাপ আছে। তেমনি তাদের এজেন্টদের জন্য রয়েছে আলাদা বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ। অ্যাপ থেকে ক্যাশইন করলে কমিশন একটু বেশি পাবেন প্রতি হাজারে ৪.৩০% ( ৪ টাকা ৩০ পয়সা) ।

যদি আপনি ১০,০০০ ( দশ হাজার ) টাকা ক্যাশইন করেন তবে ৪৩ টাকা কমিশন পাবেন । অ্যাপ ব্যাবহারে আপনি বাড়তি কিছু কমিশন পাবেন।

তবে, আপনাকে আপনার ক্যাশইন সর্বমোট লেনদেনের ৯০% ক্যাশইন এজেন্ট অ্যাপ থেকে করতে হবে। বিকাশ তাদের এজেন্টদের প্রতি হাজারে ০.২০ পায়সা বাড়তি কমিশন দিয়ে থাকে।

আপনি এজেন্ট অ্যাপ ব্যাবহার করলেও ক্যাশ আউট থেকে প্রতি হাজারে ৪.৩০% কমিশন পাবেন। মোট আপনার একাউন্টে ৫০০০+ ২১.৫০=৫০২১.৫০ টাকা যোগ হবে।

এজেন্ট অ্যাপ থেকে সারা মাসের ক্যাশইন ও ক্যাশ-আউট মিলিয়ে আপনি যদি দশ লক্ষ টাকা লেনদেন করেন তবে, আপনি বাড়তি ২০০ টাকা কমিশন পাবেন ।

বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ থেকে রেগুলার কমিশন  বাড়তি কমিশন  মোট কমিশন 
ক্যাশ ইন ১০০০ টাকা ৪.৩০ টাকা ০.২০ টাকা ৪.৫০ টাকা
ক্যাশ ইন ১০,০০০ টাকা হলে ৪৩ টাকা ২ টাকা ৪৫ টাকা
সর্বমোট লেনদেন ১,০০০০০ টাকা  ৪৩০ টাকা  ২০ টাকা ৪৫০ টাকা

বিকাশ এজেন্ট থেকে দিনে বা মাসে কত টাকা আয় করা যাবে ?

৫০ হাজার টাকা ইনভেস্ট করে যদি দিনে গড়ে ৮০ হাজার টাকা লেনদেন হয়, এই হিসেব অনুযায়ী দৈনিক ৩২৮৳ আয় করতে পারবেন।

So, আপনি

  •  দিনে ৩০*৩২৮=৯৮৪০ টাকা পাচ্ছেন,
  • তবে,
  • বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ থেকে এই পরিমান ট্রানজেকশন থেকে ১০৮০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।

আপনি আরও বেশি টাকা আয় করতে ছাইলে আপনার বেশি টাকা ইনভেস্ট করতে হবে ।

আমি এক এজেন্ট কে প্রশ্ন করে জানতে পারি ১ লক্ষ টাকায় মাসে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হবে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়।

AFTER THAT,

এই কথা বলা যায় আপনার এজেন্ট পয়েন্টটি বেশি জনবহুল এলাকায় হলে আরও বেশি টাকা আয় করতে পারবেন।

বিকাশের পাশাপাশি অন্য ব্যবসা

এখন আপনি বিকাশ ব্যবসা করার পাশাপাশি আপনি করতে পারেন মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা। এছাড়া দোকানে রাখতে পারেন মোবাইল এক্সেসরিজ ফোন, সিমকার্ড, চার্জার, ব্যাটারি, হেডফোনসহ মোবাইল ফোনের সরঞ্জাম।

ঠিক ঠাক মত ব্যবসা করতে পারলে দিনে গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করে আয় করতে পারবেন। মাস শেষে যা দাঁড়ায় প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা।

দেশের অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দাতা

  • ডাক-বিভাগের নগদ ,
  • ইউসিবির ইউক্যাশ,
  • ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং,
  • গ্রামীণফোনের মোবিক্যাশ ইত্যাদি।
  • আরও বেশি আয় করতে আরও মোবাইল ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এ নিজেকে যুক্ত করুন ।

বিকাশ এজেন্টের সুবিধা বা বিকাশ এজেন্ট হলে লাভ কি

যে কোনো ব্যবসার পাশাপাশি আপনি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে পারেন । আশেপাশে লক্ষ করলে দেখতে পাবেন কিভাবে বিকাশ ব্যবসা চলছে অন্য ব্যবসার সাথে ।

  • বিকাশ এজেন্ট নাম্বার থাকলে আপনি কোন লিমিট ছাড়া লেনদেন করতে পারবেন ।
  • আপনার বিকাশ এজেন্টে আউট হলেও আপনি কমিশন পাচ্ছেন ।
  • প্রয়োজন অনুজায়ি আপনি টাকা বিকাশ DSO থেকে নগদ ক্যাশ নিতে পারেন ।

বিকাশ ব্যবসা করার জন্য সাবধানতা অথবা বিকাশ ব্যবসার নিয়ম

এজেন্টদের সব সময় ব্যালেন্স চেক করে লেনদেন করতে হবে। নিয়ম রয়েছে এক ব্যক্তি একাধিক অ্যাকাউন্ট করতে পারবে না এবং একসঙ্গে ২৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন করতে পারবে না।

লেনদেনের সময় সতর্ক থাকতে হবে, নম্বর ভুল হচ্ছে কি না। ভুলে কোন বেক্তিগত নম্বরে টাকা চলে গেলে তা আপনি ঐ গ্রাহক টাকা না দিলে আপনার কিছুই করার থাকবে না ।

কিন্তু, ভুলে বিকাশ এজেন্ট নম্বরে টাকা গেলে আপনি আপনার বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে জনালে তারা আপনার টাকা ফিরত আনার চেষ্টা করতে পারে ।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট হ্যাকিং ও প্রতারক চক্র

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট হ্যাকিং হয়েছে এমন এখনও শুনি নাই।কিন্তু,  বেক্তিগত নম্বরে একাউন্ট হ্যাকিং খবর শুনা যায়।

তবে, বিকাশ তাদের গ্রাহকদের সর্বদা সতর্ক করে PIN CODE ও VERIFICATION CODE কাউকে না জানানোর জন্য।

  • প্রতারক চক্র ফোনে কর্তৃপক্ষের পরিচয়ে টাকা ট্রানজেকশন করতে বলে। এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
  • বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট PIN CODE প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে একবার পরিবর্তন করুন ।
  • PIN CODE গ্রাহকের সামনে শো করবেন না
  • আপনার ট্রানজেকশন রেজিস্টার খাতা জত্নে রাখুন।
  • প্রতারক চক্র বা কেউ কল করে আপনার এজেন্ট একাউন্ট ব্যালেন্স  জানাবেন না ।
  • মোবাইলের পুরনো sms ফরোয়ার্ড করে বর্তমানে জালিয়াতি করা হয়। এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

আরও দেখুনঃ

শেষকথা,

এই পোস্টে আমরা আপনাদের বিস্তারিত জানালাম বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা লাভ সম্পর্কে। বিকাশ ব্যবসার নিয়ম, বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা সুবিধা লাভ কমিশন ও খোলার নিয়ম জানালাম।ভালো লাগলে পোস্ট টি LIKE ,SHERE করতে ভুলবেন না ।